শিরোনাম :
ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: মাদ্রাসা শিক্ষক পলাতক, স্ত্রী গ্রেপ্তার সৌদিতে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: কূটনৈতিক ঘাটতি প্রশ্নে যা বললেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক হলেন সিলেটের এহতেশাম ও প্রীতম, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল আজ থেকে ফের রাত ৮টায় বন্ধ করতে হবে দোকানপাট জৈন্তাপুরে দুই মেম্বারের সমর্থকদের সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ২৫ সিলেটে ২৭ দিনে ৫ খুন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যাওয়া সেই আসির মিয়া পানসি রেস্টরেন্ট থেকে গ্রেপ্তার দীর্ঘসময় ইতালির ক্ষমতায় থাকা মেলোনিকে মোদীর শুভেচ্ছা, বার্তায় কী লিখা ছিল? লন্ডনে দুর্বৃত্তের গুলিতে সিলেটের যুবক নিহত ফ্যামিলি কার্ড : দিরাইয়ে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রদলের অবস্থান
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৯ অপরাহ্ন

ওসমানীনগরে শিপন হ*ত্যা*কান্ড নিয়ে রহস্য

ডেস্ক রিপোর্ট / ১৩১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

গত শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) গভীর রাতে সিলেটের ওসমানীনগরে চালক কে হত্যা করে ছিনতাই হওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার ও হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করলেও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনার হয়নি এখনো।

১৪ ডিসেম্বর সকালে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বেগমপুর-চাতলপাড় রাস্তার পাশে কেশবখালী নদী থেকে সিএনজি চালক শিপন আহমদের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

শিপন উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের রাইকধারা (গাংপাড়) গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে। ওইদিন শিপন আহমদের স্ত্রী গুলবাহার বেগম বাদি হয়ে ওসমানীনগর থানায় হত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন (নং ৮)।

শিপন হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ ডিসেম্বর বিকালে উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের সোয়ারগাঁও গ্রামের মৃত ছিদ্দেক আলীর ছেলে আব্দুস সামাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের দুই দিন পর ১৭ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে আদালতে প্রেরণ করা হলেও মামলার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো রিমান্ড আবেদন করেননি। গ্রেপ্তারের প্রকৃত সময়ও উল্লেখ না করে পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে আদালতে।

কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের অনুমতি ছাড়া ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় আটক রাখা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা ও দায়রা আদালতের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন বলেন, আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে আদালতে হাজির করা বাধ্যতামূলক। এর ব্যত্যয় ঘটলে তা বেআইনি আটক হিসেবে বিবেচিত হয়।

অন্যদিকে, শিপনের লাশ উদ্ধারের একই দিন রাতে পুলিশের একটি দল নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার শিবপুর গ্রামে অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় ছিনতাই হওয়া সিএনজি অটোরিকশাসহ কবির আলম টিপুকে ঘটনাস্থলে পাওয়া গেলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে ছিনতাই হওয়া সিএনজি গাড়িটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

কবির আলম টিপুকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ ওসমানীনগরের দাসপাড়া গ্রাম থেকে তার ভগ্নিপতি জিলা মিয়াকে আটক করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে, জিলা মিয়ার বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

এ ছাড়া ঘটনার দিন নিহত শিপনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে যেসব নম্বর থেকে কল করা হয়েছিল, সেসব নম্বরের ব্যক্তিদের থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। এখনো পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্ত কবির আলম টিপুকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

জানা গেছে, ছিনতাই নাকি আর কোন উদ্যেশ্যে খুন হন শিপন, বা এই হত্যাকান্ডে একাধিক অপরাধী জড়িত কি না বিষয়টি খোলাশা করছে না পুলিশ। এর আগে, রবিবার রাতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নেত্রকোনা জেলা থেকে ছিনতাই হওয়া রেজিষ্ট্রেশন বিহীন সিএনজি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।

অটোরিকশাটি কার মাধ্যমে কিভাবে নেত্রকোনা গেল এবং নেত্রকোনার কোন স্থান থেকে সেটি উদ্ধার করা হয়, এই বিষয়টিও প্রকাশ করছে না পুলিশ। ফলে এলাকায় এই ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ১৩ ডিসেম্বর শনিবার রাত ৮ টার দিকে ভাড়ায় চালিত রেজিষ্ট্রেশনবিহীন সিএনজি নিয়ে বের হলে আর বাড়িতে ফিরে আসেন নি শিপন আহমদ।

রবিবার সকালে কেশবখালী নদীতে ভাসমান অবস্থায় সিএনজি চালক শিপনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের মুখের বামপাশে কানের নিচে এবং বুকের বাম পাশে দুইটি গুরুতর রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে
বলে নিশ্চিত করে পুলিশ।

এদিকে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ শিপনের পরিবারর। ৮ মাসের সন্তানটি বুঝে উঠতে পারছে না তার পিতা আর নেই। হত্যাকান্ডে জরিতদের সুষ্ট বিচারের দাবি শিপনের পরিবারের।

মামলার বাদী গুলবাহার বেগম বলেন, আমি বারবার আসামিকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে জানান, অন্যান্য আসামি গ্রেপ্তারের সুবিধার্থে তাকে থানায় রাখা হয়েছিল।

মামলাল তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান রিমান্ডের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তবে তদন্তের স্বার্থে অনেক বিষয় প্রকাশ করা যায়না।

আদালতে সোপর্দে বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুরশেদুল আলম ভূইয়া বলেন, মামলাটি স্পর্শকাতর। তদন্তের স্বার্থে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


আরো সংবাদ পড়ুন...