বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন দ্রুত সংশোধনের দাবি

অনলাইন ডেস্ক / ৪৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন পাসের দুই দশক পরও আইনটির নানা দুর্বলতা রয়ে গেছে এবং নতুন নতুন চ্যালেঞ্জও যুক্ত হয়েছে। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আইনটিকে আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি। কিন্তু এই উদ্যোগকে ভণ্ডুল করতে তামাক কোম্পানিগুলো নানা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে—যা জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের জন্য বড় হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন দেশের ২০ জন সাংবাদিক।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করে কোম্পানিগুলো বিপুল মুনাফা করলেও দেশে প্রতি বছর এক লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং স্বাস্থ্য খরচ বেড়ে দারিদ্র্যের হারও বাড়ছে।

বিবৃতিদাতা সাংবাদিকরা বলেন, তামাকের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ফুসফুসের জটিলতা, ডায়াবেটিসসহ অসংক্রামক রোগ দ্রুত বাড়ছে। এসব রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় প্রতিবছর প্রায় চার লাখ মানুষ শুধু চিকিৎসা খরচ সামলাতেই দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে যাচ্ছে। তামাক চাষে পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, মাটি উর্বরতা কমে খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—তামাক শিশু-কিশোরদের মাদকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, কারণ তামাকই বেশিরভাগ মাদকের প্রাথমিক প্রবেশদ্বার।

সাংবাদিকরা অভিযোগ করে বলেন, সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করতে এগোতেই তামাক কোম্পানিগুলো নানা অপকৌশল শুরু করেছে। তাদের অন্যতম অপপ্রচার—‘আইন শক্তিশালী হলে সরকারের রাজস্ব আয় কমে যাবে।’ কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ বিপরীত। জাতীয় জরিপের তথ্যমতে, দেশে তামাক ব্যবহার কমলেও তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য ও কর বাড়ায় গত দুই দশকে এই খাত থেকে রাজস্ব আয় বেড়েছে প্রায় চৌদ্দ গুণ। অর্থাৎ, আইন কার্যকর হলে তামাক ব্যবহার কমে, কিন্তু রাজস্ব আয় বরং বাড়ে।

সাম্প্রতিক গবেষণা তুলে ধরে তারা বলেন, তামাক ব্যবহারের কারণে ২০২৪ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬৫ হাজার কোটি টাকাই চিকিৎসা ব্যয়। অথচ একই বছরে তামাক থেকে রাজস্ব এসেছে মাত্র ৪০ হাজার কোটি টাকা—যা স্বাস্থ্য ক্ষতির অর্ধেকেরও কম।

বিবৃতিতে বলা হয়, তামাক কোম্পানিগুলো এ সব তথ্য গোপন করে প্রকৃত সত্য আড়াল করতে চায়। তারা বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে ধূমপানের ব্যবস্থা করে শিশু-কিশোরদের নেশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, ভেপিং ও ই-সিগারেট প্রচার করছে, খুচরা বিক্রি বন্ধে বাধা দিচ্ছে এবং বিক্রয়কেন্দ্রে আগ্রাসী প্রচারণা চালাচ্ছে। আইন সংশোধন প্রক্রিয়াকেও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

এ অবস্থায় সাংবাদিকরা নীতিনির্ধারকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষের জীবন বাঁচাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন দ্রুত সংশোধন করে আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি তামাকের ওপর কার্যকর ও টেকসই করব্যবস্থা গড়ে তুলতে সমন্বিত একটি কর নীতি গ্রহণ জরুরি।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ২০ জন সাংবাদিক। তারা হলেন, ইত্তেফাক পত্রিকার বার্তা সম্পাদক (ডিজিটাল) সাহানোয়ার সাইদ শাহীন, ডিবিসি নিউজের সাংবাদিক আবু খালিদ, একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি সুশান্ত সিনহা, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার মানিক মুনতাসির, দ্য বিজনেস স্টান্ডার্ডের প্রধান প্রতিবেদক আব্বাস উদ্দিন নয়ন, দ্য ডেইলি স্টারের স্টাফ রিপোর্টার সুকান্ত হালদার, ঢাকা মেইলের স্টাফ রিপোর্টার আব্দুল হাকিম, দৈনিক খোলা কাগজের সিনিয়র রিপোর্টার মো. আলতাফ হোসেন, টাইমস অব বাংলাদেশের স্টাফ রিপোর্টার মো. আল আমিন, সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার রেজাউল করিম, প্রতিদিনের সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার মো. জাহিদুল ইসলাম ও মো. মেহেদী হাসান, সারা বাংলা ডটকমের সিনিয়র রিপোর্টার এমদাদুল হক তুহিন, ভোরের কাগজের সিনিয়র রিপোর্টার মরিয়ম সেজুতি, বাংলা ভিশন টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুন আব্দুল্লাহ, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের রিপোর্টার তানজিলা আক্তার, আজকের পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আসাদ্জ্জামান নূর ও মিম ওবায়দুল্লাহ, ঢাকা পোস্টের স্টাফ রিপোর্টার রাকিবুল হাসান তামিম ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের রিপোর্টার মো. মিয়ামুন হোসেন।


আরো সংবাদ পড়ুন...