সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করে গেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত বৃহস্পতিবার সিলেটে জনসভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন। একই দিনে তিনি মৌলভীবাজারের শেরপুর এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জেও জনসভায় ভাষণ দেন।
তারেক রহমানের সফরে বিএনপির পালে আরো হাওয়া দিয়েছে। এই সফরের পর উজ্জ্বীবিত নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছেন।
তারেক রহমানের সফরের পর থেকেই হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনের রাজনৈতিক পরিবেশে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতার সরাসরি বক্তব্য শোনার সুযোগ পেয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সলের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে নেমে পড়েছেন বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই জনসভা ঘিরে এলাকায় এখন নানা আলোচনা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ চলছে। স্থানীয়দের মতে, এই সফর শুধু বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়ায়নি, সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও দলের প্রতি নতুন আস্থা ও আগ্রহ তৈরি করেছে। জনসভা শেষে মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে বিএনপির নেতাকর্মীদের তৎপরতা কয়েক গুণ বেড়েছে। পাড়ায় পাড়ায় উঠান বৈঠক, সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ জোরদার করা হয়েছে।
নেতাকর্মীরা বলছেন, তারেক রহমান তার বক্তব্যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং সরকারে গেলে রাষ্ট্র পরিচালনার আধুনিক রূপরেখা তুলে ধরেছেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছে। বিশেষ করে, তরুণ ভোটারদের মধ্যে এই জনসভা বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে বলে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের ধারণা।
হবিগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে চা-শ্রমিকদের ভোট সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শায়েস্তাগঞ্জের জনসভায় তারেক রহমান চা-শ্রমিকদের অধিকার ও তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করায়, এলাকার ২৩টি চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে।
সুরমা চা বাগানের শ্রমিক দীপক রাজ বলেন, তারেক রহমান আমাদের কষ্টের কথা বলেছেন। আমরা আশা করি, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেবে। তাই, এবার নারী–পুরুষ সবাই ধানের শীষে ভোট দিতে প্রস্তুত।
কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে এসে কৃষকদের নিয়েও কথা বলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান। জনসভায় তিনি কৃষকদের সার, বীজ ও ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এ নিয়ে কৃষক আবুল মিয়া বলেন, কৃষক যদি ন্যায্য সহায়তা পায়, তবেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব। তারেক রহমানের কথায় আমরা বিশ্বাস পেয়েছি যে, বিএনপি সরকারে এলে কৃষকদের ভাগ্য বদলাবে।
জনসভায় মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানোয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যেও সাড়া পড়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা জারু মিয়া জানান, স্বাধীনতার চেতনা সমুন্নত রাখতে এবং দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে তারা ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। অনেক প্রবীণ রাজনৈতিক কর্মীর মতে, এই জনসভা কেবল একটি দলীয় সমাবেশ নয়, বরং একটি গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণার মাঠ এখন ধানের শীষের স্লোগানে মুখর। মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল বলেন, শায়েস্তাগঞ্জের জনসভা ভোটারদের মনে দাগ কেটেছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে এটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এখন আমাদের প্রধান কাজ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনা।
জেলা বিএনপির সহসভাপতি সৈয়দ মো. শাহজাহান বলেন, তারেক রহমানের এ সফর আমাদের জন্য সঞ্জীবনী শক্তির মতো কাজ করেছে। মানুষ পরিবর্তন চায়। এই আসনে ধানের শীষের জয়ের লক্ষে নেতাকর্মী মাঠে ময়দানে নেমে পড়েছেন। তারেক রহমানের এই সফর হবিগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির অবস্থানকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত করেছে। ভোটারদের মধ্যে যে স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা যাচ্ছে, ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।