শিরোনাম :
ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: মাদ্রাসা শিক্ষক পলাতক, স্ত্রী গ্রেপ্তার সৌদিতে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: কূটনৈতিক ঘাটতি প্রশ্নে যা বললেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক হলেন সিলেটের এহতেশাম ও প্রীতম, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল আজ থেকে ফের রাত ৮টায় বন্ধ করতে হবে দোকানপাট জৈন্তাপুরে দুই মেম্বারের সমর্থকদের সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ২৫ সিলেটে ২৭ দিনে ৫ খুন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যাওয়া সেই আসির মিয়া পানসি রেস্টরেন্ট থেকে গ্রেপ্তার দীর্ঘসময় ইতালির ক্ষমতায় থাকা মেলোনিকে মোদীর শুভেচ্ছা, বার্তায় কী লিখা ছিল? লন্ডনে দুর্বৃত্তের গুলিতে সিলেটের যুবক নিহত ফ্যামিলি কার্ড : দিরাইয়ে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রদলের অবস্থান
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২০ অপরাহ্ন

প্রবাসী দম্পতির বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার এ মামলা, এলাকাজুড়ে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি ,বিয়ানীবাজার: / ৪৯ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬

সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার থানায় দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মামলাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে তীব্র আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিয়ানীবাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ আলম এই মামলাটি দায়ের করেন।

এ মামলায় কানাডা প্রবাসী মুজিবুর রহমান রাফি, তার স্ত্রী আয়েশা বেগম ও তার ভাই মোঃ আবুল হাসনাত স্বপন এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্র ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছেন, সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছেন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

তবে অভিযুক্তদের পরিবার এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি,মুজিবুর রহমান রাফি, তার স্ত্রী আয়েশা বেগম দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং মামলায় উল্লেখিত অভিযোগের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বের একটি রাজনৈতিক বিরোধ এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের জের ধরেই তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কানাডা থেকে আয়েশা বেগম জানান, এটি একটি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা। আমার স্বামী এবং আমি পুলিশি নির্যাতনের শিকার। পুলিশ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি এবং জুলাই আন্দোলনের বিতর্কিত ভূমিকার তথ্য দেবার জন্যই এই মামলা করা হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্তদের আইনজীবী দাবি করেছেন, মামলার সময়, ঘটনাপ্রবাহ এবং অভিযুক্তদের অবস্থান পর্যালোচনা করলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি হয়।

তার মতে, মামলাটি একটি দীর্ঘদিনের বিরোধের ধারাবাহিকতায় দায়ের হয়েছে এবং এটি বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে যাচাই হওয়া উচিত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মামলাটি এলাকায় ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, গত কয়েক বছর ধরে অভিযুক্ত পরিবারের সঙ্গে বিয়ানীবাজার থানার বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং এলাকার কিছু প্রভাবশালী মহলের সাথে বিরোধ চলছিল। তাদের ভাষায়, সাম্প্রতিক মামলাটি সেই বিরোধেরই ধারাবাহিকতা বলে অনেকের ধারণা।

একজন ব্যবসায়ী বলেন, “এই পরিবারকে নিয়ে আগেও নানা ঘটনা ঘটেছে। জনাব মুজিবুর রহমান রাফিকে এর আগেও হত্যা চেষ্টা হয়েছে এবং একটি মামলাও সিলেট জেলা কোর্টে চলমান। পুলিশ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নির্যাতনের কারণে রাফি ও তার পুরো পরিবার এখন দেশ ছাড়া।

আয়েশার পরিবারের অভিযোগ, মামলার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং বিদেশে অবস্থানরত তাদের মেয়ে ও তার স্বামীর সম্পর্কে তথ্য দিতে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এসব ঘটনার ফলে পরিবারটি চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে বলে তাদের স্বজনরা দাবি করেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে তিনি মামলার ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাননি।


আরো সংবাদ পড়ুন...