শিরোনাম :
ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: মাদ্রাসা শিক্ষক পলাতক, স্ত্রী গ্রেপ্তার সৌদিতে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: কূটনৈতিক ঘাটতি প্রশ্নে যা বললেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক হলেন সিলেটের এহতেশাম ও প্রীতম, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল আজ থেকে ফের রাত ৮টায় বন্ধ করতে হবে দোকানপাট জৈন্তাপুরে দুই মেম্বারের সমর্থকদের সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ২৫ সিলেটে ২৭ দিনে ৫ খুন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যাওয়া সেই আসির মিয়া পানসি রেস্টরেন্ট থেকে গ্রেপ্তার দীর্ঘসময় ইতালির ক্ষমতায় থাকা মেলোনিকে মোদীর শুভেচ্ছা, বার্তায় কী লিখা ছিল? লন্ডনে দুর্বৃত্তের গুলিতে সিলেটের যুবক নিহত ফ্যামিলি কার্ড : দিরাইয়ে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রদলের অবস্থান
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন

বিয়ানীবাজারে চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার ব্যবসায়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক | সিলেট: / ৪৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪

সিলেটের বিয়ানীবাজারের ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল করিম রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চাঁদাবাজি, হামলা, ব্যবসা দখল এবং পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তার জীবন হুমকির মুখে পড়ে।

বিয়ানীবাজারের ব্যবসায়ীরা জানায়, মোঃ আব্দুল করিম বারইগ্রাম বাজারে “আল কাদির এন্টারপ্রাইজ” নামে নির্মাণ সামগ্রী, স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক পণ্যের একটি ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তিনি সরব হন এবং ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধভাবে এর প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা নুরুল ইসলাম নাহিদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত সাবু আহমদ ও দুলু মিয়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন। মোঃ আব্দুল করিম এই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই তিনি হুমকি পেতে শুরু করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নেতাদের নিকট আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করা হয়।

মোঃ আব্দুল করিম-এর পরিবার অভিযোগ করেন, দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ১৯ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। তার স্ত্রী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাও আহত হয় বলে জানা যায়। হামলার সময় বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

হামলার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “আল কাদির এন্টারপ্রাইজ” জোরপূর্বক দখল করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দুলু মিয়া ও তার সহযোগীরা ওই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

এছাড়া, তার পরিবার অভিযোগ করেন যে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ঢাকায় অবস্থানকালে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আটক করে নির্যাতন চালায় এবং তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা করার হুমকি দেয়। তিনি দাবি করেন, তাকে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করার চেষ্টা করা হয়।

২০২৪ সালের মার্চ মাসে তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করে কানাডায় যান। তবে তার পরিবারের দাবি, দেশত্যাগের পরও তার পরিবার নিরাপদ নয়। তাদের ওপর পুলিশি নজরদারি ও স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপ অব্যাহত রয়েছে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি জানান, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলালেও তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিরা নতুন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে নিজেদের প্রভাব বজায় রেখেছে।

ফলে দেশে ফিরলে তিনি পুনরায় গ্রেপ্তার, নির্যাতন কিংবা প্রাণনাশের ঝুঁকিতে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


আরো সংবাদ পড়ুন...