শিরোনাম :
রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি : চক্র খুঁজে বের করার নির্দেশ

ডেস্ক রিপোর্ট / ১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ভাসমান নৌকায় থাকা কমপক্ষে ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের ১০ জন রয়েছেন বলে এখন পর্যন্ত খবর পাওয়া গেছে। রবিবার (২৯ মার্চ) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে গ্রিসের বাংলাদেশ দূতাবাস। এই কাজে জড়িত চক্রকে খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা আমাদের মিশন থেকে যে তথ্যটা পেয়েছি, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বেসিক্যালি এই যারা স্মাগলিংটা করে তারা লিবিয়ারও আছে এবং বাংলাদেশেও আছে। আমরা ধারণা করছি, এটা একটা চক্র, যারা সব সময় বিভিন্ন দেশে নাগরিকদের বিপদে ফেলে, তাদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টাকা-পয়সা দিয়ে তারা নিয়ে যায়। এই পার্টিকুলার ইনসিডেন্টটা এখানে বেশ কিছু দেশের নাগরিকরা ছিল।

তার মধ্যে বাংলাদেশের কিছু নাগরিক ছিল, তার মধ্যে আরো আনফরচুনেট হচ্ছে একজন নারী ছিলেন, একজন শিশু ছিল। আমরা এখনো বিস্তারিত জানি না। তাদের উদ্ধার করে কিছু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং কিছু তাদের একটা ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমাদের দূতাবাস তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে জানার চেষ্টা করেছে।

আরো ডিটেইলস, কী অবস্থায় আছে—তা জানার চেষ্টা করছে। এখন তারা একটা প্রসেসের মধ্যে ঢুকে গেছে, গ্রিসের ওখানে সংশ্লিষ্ট যারা আছে, তাদের ওই সরকারের কিছু নিয়ম মেনে তাদের কিভাবে ক্যাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়, তাদের ফিরিয়ে আনার কী ব্যাপার, হাসপাতালে যারা আছে, তাদের কী অবস্থা। সেটায় একটু আমাদের সময় লাগবে, কাজ চলছে।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এটা থেকে আমাদের প্রতীয়মান হয় যে আমরা কত ভালনারেবল অবস্থায় আছি।

এই যে স্মাগলাররা, তাদের একটা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এখানে হওয়া উচিত এবং আমার মন্ত্রণালয়কে আমি আজকে সকালে বললাম যে এটা আইডেন্টিফাই করা যায় কিভাবে, কারা এটা করছে। এখানে লিবিয়ার লোকজনও আছে, বাংলাদেশের লোকজনও আছে। এটা আইডেন্টিফাই করে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের শাস্তি হোক বা বাংলাদেশি আইনের শাস্তি—তাদের শাস্তি আওতায় আনতে হবে। আরো দুর্ভাগ্যজনক কী পরিমাণ এরা অমানবিক এবং ক্রিমিনাল হলে এবং যখন এটা তারা হয়তো ভেবেছিল এক দিন-দুই দিনে তারা সাগর পার হয়ে যাবে, কিন্তু লেগেছে ছয় থেকে সাত দিন এবং ছয় থেকে সাত দিনের খাবার তাদের সঙ্গে ছিল না, পানি ছিল না, কিছুই ছিল না। অমানবিক অবস্থায় কিছু ওখানে লোকজন জাহাজ যারা মারা গিয়েছিল তাদের ফেলে দেওয়া হয়েছে পানিতে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের একটু সময় লাগবে কারণ এখন আমাদের ওখানে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করছে। কারণ কিছু রুলস অ্যান্ড রেগুলেশনসের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। যখন এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটে তখন প্রত্যেক দেশে সরকারি সেনসিটিভ তারা হয়ে যায়। তো এখন আমাদের মেইনলি আমাদের এখন ফার্স্ট কাজ হচ্ছে যে বাংলাদেশি আমাদের যারা ওখানে তারা জীবনটা বেঁচে গেছে তাদের অবস্থা কী, তারা ক্যাম্পে কী অবস্থায় আছে তাদের আইডেন্টিফিকেশনটা আমাদের দরকার। প্রথমত আমাদের জানতে হবে যে প্রতিটা আইডেন্টিফিকেশন কারেক্ট নাকি এবং সেটা সত্য নাকি। জানার পরে ক্যাম্পে তাদের ফিরিয়ে আনার। নেক্সট স্টেপ হচ্ছে তাদের ফিরিয়ে আনার।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইনভেস্টিগেশন করছে এবং আমরাও সচেষ্ট আছি। কিন্তু এটা আমি মনে করি লং টার্ম সলিউশন হচ্ছে যে এটা কিভাবে বন্ধ করা যায়, সেটার একটা উপায় আমাদের অবশ্যই বের করতে হবে। কারণ এটা হতে দেওয়া যায় না। এটা কোনোভাবেই সভ্যতার কোনো ডেফিনিশনের মধ্যে এটা পড়ে না।’


আরো সংবাদ পড়ুন...