সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন

দাঁতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে স্ট্রোকের ঝুঁকি

অনলাইন ডেস্ক / ৪৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫

আমাদের মধ্যে অনেকেই দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বোঝেন না। অন্যান্য অসুখের ক্ষেত্রে আমরা যতটা সচেতন, দাঁতের ক্ষেত্রে ততটাও নই। কারণ, দাঁতে ব্যথা হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যথার ওষুধ কিনে খেতে দেখা যায়।

এই ব্যথার ওষুধে হয়তো সাময়িকভাবে ব্যথা কমে।

ন্যাশনাল ওরাল হেলথ সার্ভে ও অন্যান্য গবেষণা থেকে জানা গেছে, ১৫ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের ৬২ শতাংশ দাঁতের রোগে আক্রান্ত।৩৫-৪৪ বছরের মধ্যে দাঁতের রোগে ভুগছেন ৭৯.২ শতাংশ মানুষ। এ ছাড়া ৬৫-৭৪ বছরের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষের দাঁতের রোগ রয়েছে।

আরো পড়ুন

মেথি ভেজানো পানি যাদের জন্য ক্ষতিকর

মেথি ভেজানো পানি যাদের জন্য ক্ষতিকর

দাঁতের রোগকে আমরা খুব একটা পাত্তা দিই না। কিন্তু জানেন কি, দাঁতের সমস্যা থেকে বাড়তে পারে স্ট্রোকের ঝুঁকি? গুরুতর মাড়ির রোগের কারণে মুখগহ্বরে যে প্রদাহ ও ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, তা রক্তপ্রবাহে মিশে যায়।এই প্রদাহ হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালিকে সংকুচিত করে এবং ধমনি ব্লক করে দিতে পারে, যা ইস্কেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।

তাই, সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সঠিক দাঁতের পরিচর্যা জরুরি। ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল ও ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সম্প্রতি একটি গবেষণা চালান। ২০২৫ সালে ‘নিউরোলোজি’-তে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। জানা যাচ্ছে, যে সব প্রাপ্তবয়স্কদের একই সঙ্গে মাড়ির রোগ ও দাঁতের ক্ষয় রয়েছে, তাদের ইসকেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি সাধারণের তুলনায় ৮৬ শতাংশ বেশি।

দাঁতের রোগ থেকে বাঁচতে কী করবেন

  • প্রতিদিন কমপক্ষে দুই বার ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন। ব্রাশ করার সময় দাঁত ও মাড়িকে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন, জোরে জোরে ঘষবেন না।

আরো পড়ুন

পেটের গ্যাস থেকে কি আসলেই মাথা ব্যথা হয়?

পেটের গ্যাস থেকে কি আসলেই মাথা ব্যথা হয়?

 

  • ব্রাশটি দাঁতের ওপর ৪৫ ডিগ্রি কোণে ধরে বৃত্তাকার গতিতে এবং ওপর-নিচে পরিষ্কার করুন। আড়াআড়িভাবে বা সোজাসুজি ঘষা এড়িয়ে চলুন। জিহ্বা ও তালুও পরিষ্কার করুন, এতে মুখের দুর্গন্ধ দূর হবে।
  • প্রতিদিন একবার বিশেষ করে রাতে ব্রাশের আগে ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুন। ফ্লসিং দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবার ও প্লাক অপসারণ করে।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, অতিরিক্ত প্লাক বা মাড়ির সমস্যা থাকলে ফ্লোরাইডযুক্ত বা অ্যান্টিসেপটিক মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন। তবে এটি ফ্লসিং বা ব্রাশ করার বিকল্প নয়।
  • চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় কমান। খাবার খাওয়ার পর পানি দিয়ে ভালোভাবে কুলকুচি করুন। দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন।
  • দাঁতের সমস্যা না থাকলেও, কমপক্ষে প্রতি ৬ মাস অন্তর একজন ডেন্টিস্টের কাছে রুটিন চেক-আপ এবং স্কেলিং করান।

আরো পড়ুন

রাতে দুধ খাওয়া ভালো নাকি খারাপ, কী বলছে চিকিৎসাবিজ্ঞান

রাতে দুধ খাওয়া ভালো নাকি খারাপ, কী বলছে চিকিৎসাবিজ্ঞান

  • ধূমপান ও তামাক সেবন মাড়ির রোগ ও মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এগুলো সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলুন।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে মুখ আর্দ্র থাকে এবং স্বাভাবিক ভাবে লালা প্রবাহ বজায় থাকে, যা দাঁতের ক্ষয়কারী এসিডকে দূর করতে সাহায্য করে।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন


আরো সংবাদ পড়ুন...