সিলেটে বহুল আলোচিত ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি মামলাকে ঘিরে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শাহপরান থানায় দায়ের হওয়া এই মামলায় ভোট কারচুপি, সরকারি কাজে বাধা এবং নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগ এনে কয়েকজন স্থানীয় বিরোধী দলের সমর্থক, রাজনৈতিক কর্মী এবং অজ্ঞাতনামাসহ এক প্রবাসীকেও আসামি করা হয়েছে। তবে মামলাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এলাকাজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে, এটি প্রকৃতপক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের আগে ও পরে বিরোধী মতের ব্যক্তিদের ওপর চাপ সৃষ্টি, হুমকি প্রদান এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির ঘটনা বাড়তে থাকে। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কয়েকজন স্থানীয় বিরোধী সমর্থককে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
এই মামলায় নাম আসা প্রবাসী ব্যবসায়ী জাহেদ আহমেদ বর্তমানে কানাডাতে অবস্থান করছেন। কানাডা থেকে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “যে সময় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে, আমি তখন বাংলাদেশে ছিলাম না। আমি কানাডায় অবস্থান করছিলাম। তারপরও আমাকে ও আমার ভাইকে নির্বাচনকেন্দ্রিক মামলায় আসামি করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি জাহাঙ্গীর ও একটি প্রভাবশালী চক্র তাকে ও তার পরিবারকে টার্গেট করে আসছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের কিছু সদস্যও তাদের সহযোগিতা করছে।
উল্লেখ যে, জনাব জাহাঙ্গীর বর্তমান সংসদ সদস্য জনাব খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর এর খুব কাছের লোক বলে পরিচিত।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিজয় মিছিলের নামে কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে জাহেদ আহমেদের পরিবারের বাড়িও ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই সময় কয়েকজন বিরোধী সমর্থক ও তাদের পরিবারের সদস্যদেরও হুমকি দেওয়া হয় এবং অনেকে নিরাপত্তার অভাবে আত্মগোপনে চলে যেতে বাধ্য হন।
স্থানীয় অনেক বাসিন্দা প্রশ্ন তুলেছেন, বিদেশে অবস্থানরত একজন ব্যক্তিকে কীভাবে নির্বাচনী সহিংসতার মামলায় জড়ানো হলো। পাশাপাশি বিরোধী মতের রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মামলা এবং গ্রেপ্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
সচেতন মহল মনে করছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মামলার ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী পক্ষের ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং তাদের পরিবারকে চাপের মুখে ফেলার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এ ব্যাপারে জাহাঙ্গীর আলমকে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেন।