সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ এলাকায় এক নির্মাণ ব্যবসায়ীর ওপর হামলা ও নির্মাণাধীন ভবনে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। আহত ব্যবসায়ী জাহেদ আহমেদ দাবি করেছেন, স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার ও নির্মাণসামগ্রী ক্রয়ে চাপ প্রয়োগকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, জাহেদ আহমেদ “শিকড় আর্কিটেক্ট অ্যান্ড বিল্ডার্স” নামে একটি নির্মাণ ও ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক। ২০২৩ সালের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি শিবগঞ্জ এলাকায় এক প্রবাসী ক্লায়েন্টের জন্য তিনতলা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরুর কিছুদিন পর স্থানীয় কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলমের ঘনিষ্ঠ লোকজন তার কাছে গিয়ে নির্দিষ্ট দোকান থেকে রড ও সিমেন্ট কেনার জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
জাহেদ আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমদিকে তিনি ওই দোকান থেকে কিছু নির্মাণসামগ্রী ক্রয় করলেও পরে সরবরাহকৃত সিমেন্টের মান নিয়ে আপত্তি তোলেন। তিনি নিম্নমানের পণ্য ফেরত দিতে চাইলে তা নিতে অস্বীকৃতি জানানো হয় এবং আরও নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে এবং তার শ্রমিকদের মৌখিকভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করার চেষ্টা করলে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী।
তার অভিযোগ, এর কয়েকদিন পর গত ১৬ জুলাই জাহাঙ্গীর আলম ও তার সহযোগীরা নির্মাণস্থলে গিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় নির্মাণাধীন ভবনে ভাঙচুর করা হয় এবং তাকে রড ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে জানান জাহেদ।
আহত অবস্থায় জাহেদ আহমেদকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনি জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং পরদিন হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে পান।
এ ব্যাপারে জাহেদ আহমেদ বলেন তিনি পুলিশ এর সাহায্য চেয়েও তিনি কোনো সাহায্য পাননি। উল্টো পুলিশ তাকে নানান বিষয়ে দোষারোপ করেন বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় থানার পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।