সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের কালিজুড়ি গ্রামে পারিবারিক সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধের জেরে মোহাম্মদ শিবলু মিয়া-এর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে তার চাচা মোহাম্মদ হারুন মিয়ার বিরুদ্ধে।
গত ৩০ মে ২০২২ তারিখে কালিজুড়ি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন শিবলু মিয়া। পরিবারের সম্পত্তিতে নিজের ন্যায্য অংশ দাবি করায় তার চাচা হারুন মিয়া তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে জানা গেছে।
শিবলুর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সম্পত্তির দাবি থেকে সরে যাওয়ার জন্য তাকে চাপ দেওয়া হয়। তিনি এতে রাজি না হলে হারুন মিয়া তার ওপর হামলা চালান। হামলায় শিবলুর বাম হাতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং পরে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়।
ঘটনার পর শিবলু মিয়া বিশ্বনাথ থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে বিষয়টি জানান এবং হামলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে তার অভিযোগের ভিত্তিতে কার্যকর তদন্ত বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
শিবলুর পরিবারের অভিযোগ, হারুন মিয়ার সঙ্গে বিশ্বনাথ থানার পুলিশ কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত না করে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে, পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিবলু মিয়ার বোন ফাহিমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামী মো. সুমন খানের নির্যাতনের শিকার ছিলেন। শিবলু মিয়া বোনের নিরাপত্তার জন্য পাশে দাঁড়ান এবং ২০২১ সালে তার বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেন।
ফাহিমার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর সুমন খান শিবলু মিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে পরিবারের অভিযোগ। শিবলুকে তিনি বিবাহবিচ্ছেদের জন্য দায়ী করে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, হারুন মিয়া ও সুমন খানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং উভয় পক্ষের বিরোধের কারণে শিবলু মিয়া বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
শিবলু মিয়া বলেন, তিনি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী এবং কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে কোনো অন্যায় ব্যবস্থা না নিয়ে হামলার ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধটি দীর্ঘদিনের এবং বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
শিবলু মিয়া বলেন, তিনি পুলিশের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি হতাশ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিশ্বনাথ থানার সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।