রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন

খিলগাঁওয়ে তল্লাশির নামে হয়রানির অভিযোগ

ক্রাইম রিপোর্টার / ৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬


অর্থপাচার মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় একটি বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালানোর সময় হয়রানি ও আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ১৫ আগস্ট কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা মো. রবিউল্লাহর বাড়িতে গিয়ে তল্লাশির নামে ব্যাপকভাবে জিনিসপত্র তছনছ করেন। পরিবারের দাবি, পুলিশ সদস্যরা বাড়িতে প্রবেশ করে বিভিন্ন কক্ষ ও ব্যক্তিগত সামগ্রী তল্লাশি করেন এবং আসবাবপত্রসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের ক্ষতি সাধন করেন। এ সময় বাড়িতে থাকা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, মো. রবিউল্লাহর জামাতা মোহাম্মদ জহির, তার স্ত্রী এবং শ্বশুরের বিরুদ্ধে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে একটি অর্থপাচার মামলা দায়ের করা হয়। পরিবারের দাবি, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দায়ের করা হয়েছে এবং এর পেছনে জহিরের ছোট ভাই মো. রফিকুল ইসলামের ভূমিকা রয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, মামলায় রফিকুল ইসলামকে সম্ভাব্য সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে ১৫ আগস্টের তল্লাশি অভিযানের সময় রফিকুল ইসলামের পুলিশের সঙ্গে উপস্থিতি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আরও উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়। পরবর্তীতে ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে আসামিদের আদালতে অনুপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে মোহাম্মদ জহির, তার স্ত্রী এবং তার শ্বশুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পরিবারের দাবি, ১৫ আগস্টের তল্লাশি অভিযানটি জহির ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে চলমান হয়রানি এবং আইনি চাপেরই ধারাবাহিকতা।

তাদের অভিযোগ, এর আগে জহিরের বিরুদ্ধেও অবৈধ ঔষধ উৎপাদনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি কারাগারে থাকাকালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বলে তার পরিবারের দাবি। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পান এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই মামলায় অব্যাহতি পান বলে তার বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের আরও অভিযোগ, জহিরের সঙ্গে তার ছোট ভাই রফিকুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক, সম্পত্তি ও ব্যবসায়িক বিরোধ চলে আসছে। পরিবারের দাবি, এই বিরোধের জেরে রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে জহিরকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করে আসছেন।

১৫ আগস্টের তল্লাশি অভিযানের পর পরিবারের সদস্যরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তাদের আশঙ্কা, চলমান অর্থপাচার মামলাকে কেন্দ্র করে জহির ও তার পরিবারের ওপর আরও আইনি ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, জহির বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। ফলে তিনি বাংলাদেশে ফিরে গেলে গ্রেপ্তার হয়ে পুনরায় কারাগারে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তার স্ত্রী ও শ্বশুরও মামলার আসামি হওয়ায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও ভবিষ্যতে হয়রানির শিকার হতে পারেন বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

১৫ আগস্টের তল্লাশি অভিযান সম্পর্কে প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


আরো সংবাদ পড়ুন...