দোহার উপজেলার এক স্থানীয় ব্যবসায়ী ও তার পরিবার গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে তাদের বাড়িতে সংঘটিত হামলার ঘটনায় চরম আতঙ্কে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় পরিবহন ব্যবসায়ী মোঃ হাবিবুর রহমান, যিনি ওই এলাকার একটি ক্ষুদ্র ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা পরিচালনা করেন।
দৈনিক দেশের ডাক’কে জানান যে, সোমবার গভীর রাতে তার বাড়ির দরজা ও জানালার দিকে চারটি কাঁচা বোমা নিক্ষেপ করা হয়। বিস্ফোরণে জানালার কাচ ভেঙে যায়, তিনি ও তার ছেলে আহত হন এবং পরিবারটি আতঙ্কে সেদিন রাতে বাড়িতে থাকতে পারেননি।
তিনি বলেন, “যা ঘটেছে তার পর আমরা সেখানে থাকতে পারিনি। আমি ও আমার ছেলে কাচের টুকরোতে কেটে গিয়েছিলাম, পরদিন সকালে আমরা নিরাপত্তার জন্য ঢাকায় চলে যাই।”
তিনি আরও জানান, পরিবারটি ঢাকায় কয়েক সপ্তাহ অবস্থান করে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।
মোঃ হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, বোমা হামলার পাশাপাশি সেদিন রাতে তার মালিকানাধীন দুইটি মালবাহী ট্রাকের টায়ার ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলা হয়। এ ঘটনায় তার পরিবহন ব্যবসা “পদ্মা পরিবহন”, যা ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে তিনটি ট্রাক পরিচালনা করত, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি শারীরিক ও আর্থিক-দুই দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমরা ভবিষ্যৎ হামলার ভয় পাচ্ছি।”
হাবিবুর রহমানের মতে, এই ঘটনাগুলো সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী ও স্থানীয় যুব গোষ্ঠীগুলো সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিল।
তার দাবি, তিনি এক প্রভাবশালী স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার দুর্নীতির সমালোচনা করায় তার প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়, এবং স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার ভোররাতে তারা বিকট শব্দ শুনতে পান এবং বাড়ির জানালার কাচ ভাঙা দেখতে পান। কয়েকজন প্রতিবেশী হামলার পরপরই পরিবারটিকে সহায়তা করেন। দৈনিক দেশের ডাক এই ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মন্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রকাশনার সময় পর্যন্ত কোনো সরকারি বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
হাবিবুর রহমান জানান, হামলার পরদিনই তিনি ও তার পরিবার দোহার ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন এবং বর্তমানে তারা নিরাপত্তা ও জীবিকা পুনর্গঠনের উপায় খুঁজছেন।