২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি আরও ঝালিয়ে নিতে ইউরোপে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। আগামী নভেম্বরেই আফ্রিকার দুই শক্তিশালী দল সেনেগাল ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে নামবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বৃহস্পতিবার এমনটাই ঘোষণা দিয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)।
কার্লো আনচেলত্তির অধীনে থাকা ব্রাজিল ১৫ নভেম্বর লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে সেনেগালের, এরপর তিন দিন পর ফ্রান্সের লিলে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। সিবিএফ জানায়, “আসন্ন প্রীতি ম্যাচগুলোর মূল লক্ষ্য হলো আফ্রিকান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করা,” যা আগামী বছরের উত্তর আমেরিকাভিত্তিক বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্ব শেষ হওয়ার পর ব্রাজিল এবার এশিয়ান ও আফ্রিকান দলের বিপক্ষে প্রস্তুতি নিচ্ছে। অক্টোবর মাসে তারা দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫–০ গোলে হারালেও জাপানের কাছে হেরে যায় চমকে। মে মাসে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ব্রাজিলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া আনচেলত্তির হাতে প্রস্তুতির সময় ছিল সীমিত। তাই বিভিন্ন মহাদেশের দলের বিপক্ষে খেলে খেলোয়াড়দের বিভিন্ন খেলার ধরণে অভ্যস্ত করাতেই এই পরিকল্পনা।
সিবিএফ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চে তাদের পরবর্তী প্রীতি ম্যাচগুলোর সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হবে ইউরোপের শীর্ষ দলগুলো, আর ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে। আনচেলত্তি ধীরে ধীরে নিজের কৌশল দলটির মধ্যে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। তিনি জোর দিচ্ছেন বহুমাত্রিক ট্যাকটিকাল চ্যালেঞ্জের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ওপর, বিশেষ করে অন্য মহাদেশের দলের বিপক্ষে খেলার সময়।
সিবিএফ সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী তিনটি আন্তর্জাতিক বিরতিতে আনচেলত্তির মূল লক্ষ্য হবে নভেম্বরে খেলোয়াড়দের চূড়ান্ত মূল্যায়ন ও কৌশলগত সমন্বয়, মার্চে প্রথম একাদশ নির্ধারণ, আর বিশ্বকাপের আগে রিও ডি জেনেইরোর মারাকানায় ভক্তদের সামনে শেষ এক প্রীতি ম্যাচ খেলে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা। আসন্ন সেনেগাল ও তিউনিসিয়া ম্যাচগুলো ব্রাজিলের প্রস্তুতি যাচাইয়ের বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সেনেগাল দলে আছেন সাদিও মানে, নিকোলাস জ্যাকসন ও কালিদু কুলিবালি যারা বিশ্বের যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারেন। দুই বছর আগে লিসবনে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৪–২ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল সেনেগাল।
অন্যদিকে, তিউনিসিয়া পরিচিত তাদের দৃঢ় রক্ষণভাগের জন্য এবং আফ্রিকার প্রতিযোগিতাগুলোতে নিয়মিত ভালো পারফর্ম করে। তারা চলতি সেপ্টেম্বরেই আফ্রিকার দ্বিতীয় দল হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে, দুই ম্যাচ হাতে রেখেই।