সম্প্রতি শেষ হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফেনীর সোনাগাজী থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে বাঁধা ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে মামলাটি করেছেন সংশ্লিষ্ট থানার একজন সাব ইন্সপেক্টর। এ মামলায় বিরোধী দলের সর্মথক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে আসামি করা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই মামলার ২ নং আসামি মোঃ মহি উদ্দিন কানাডা থেকে জানান ,এটি একটি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা। তিনি দাবি করেন বিএনপি নেতা সোহান এর সাথে পূর্বশত্রতার জের ধরে তাকে ও তার ভাইকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।
তিনি বলেন এই নির্বাচনে তিনি দেশেই ছিলেন না। ভুক্তভোগী মহি জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে সোহান তাকে ও তার স্ত্রীকে হয়রানি ও নির্যাতন করে আসছিলেন।
এই ঘটনায় ফেনী জেলা জজ কোর্ট এ একটি মামলাও বিচারাধীন এবং সোহান জামিনে আছেন বলে জানান তিনি। পুলিশ এর কাছ থেকে কোনো সাহায্য পাননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভুগীর পরিবার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রতিবেশী জানান, সোহান ও তার গুণ্ডাবাহিনীর নির্যাতনে মহি ও তার পরিবার এখন এলাকা ছাড়া।
পরিবারের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে সোহান এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর থেকেই তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ, ভয়ভীতি ও হয়রানি চলছিল।
পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সোহান এর প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায় এবং সেই প্রেক্ষাপটে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে মামলার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একাধিকবার অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তার অবস্থান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন বলে পরিবারের দাবি। শুধু তাই নয়, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছেও বিভিন্ন ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনজীবীর ভাষ্য, তার মক্কেল মামলার কথিত ঘটনার সময় বাংলাদেশে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বলেন, মামলার অভিযোগ ও সময়কাল যাচাই করলে বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মামলা সংক্রান্ত কাগজ তারা হাতে পেয়েছেন এবং মামলাটি বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।