শিরোনাম :
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন

মৌলভীবাজারে নারী ও শিশুকে অপহরণের চেষ্টা: মামলা প্রত্যাহারের হুমকি

স্টাফ রিপোর্টার: / ৪০ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৩

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় রাজনৈতিক চাপে নারী ও শিশুকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট বিকেলে।

স্থানীয় আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের কয়েকজন নেতা এঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী মুহিবুর রহমান আলমগীর জানান, সেদিন বিকেলে তার স্ত্রী তাহেরা জান্নাত ও দুই বছরের শিশুকন্যা তাওয়াক্কা আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে তিনজন যুবলীগ কর্মী রিকশার গতিরোধ করে। তারা আলমগীরের স্ত্রীকে রিকশা থেকে টেনে নামিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং বলে, যদি আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করা হয়, তবে তারা তার দুই বছরের শিশুকে ছিনিয়ে নেবে।

প্রত্যক্ষদর্শী আবদুর রহিম, পাশের এক দোকানদার, বলেন, “আমি দেখি, তারা রাস্তার মাঝখানে রিকশা থামিয়ে চিৎকার করতে থাকে। এক ব্যক্তি মহিলার হাত ধরে টান দেয়। তারা বলে, ‘তোমার স্বামী মামলা তুলে না নিলে তোমার মেয়েকে নিয়ে যাব।’” ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে তাহেরা জান্নাত স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আশপাশের লোকজন জড়ো হতে শুরু করলে হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগীর স্বামী ঘটনাটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে জানালে তিনিনাকি পরামর্শ দেন, “দুইটা মামলা তুলে ফেলো, না হলে সামনে আরও বড় বিপদে পড়বা।” মুহিবুর রহমান আলমগীর বলেন, “চেয়ারম্যান সরাসরি আমাকে বলেন মামলা না তুললে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে। সেই দিন থেকেই আমরা ভয়ে দিন কাটাচ্ছি।”

আলমগীরের স্ত্রী এখনো ঘটনার স্মৃতি মনে করতে গিয়ে ভেঙে পড়েন।

তিনি কেঁদে বলেন, “আমি সেদিন আমার মেয়েকে বুকের সঙ্গে এমনভাবে চেপে ধরেছিলাম যেন আমার হাতই তার একমাত্র ঢাল। ওরা তাচ্ছিল্য করে বলে গেল—‘তোমার স্বামীকে বলো মেনে নিতে, না হলে মেয়েকে উধাও করে দেব।’ সেই মুহূর্ত থেকে আমার চোখে ঘুম নেই। প্রতিদিন রাতে সেইদৃশ্য আমার মনে ভেসে ওঠে।”
অত্যন্ত ছোট হলেও ঘটনাটি আলমগীরের মেয়ে আজও ভুলতে পারেনি। মায়ের আঁচল আঁকড়ে ধরে সে ফিসফিস করে বলল, “আম্মু কাঁদছিল, লোকগুলো চিৎকার করছিল। আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম তারা আমাকে নিয়ে যাবে।”

এটি কেবল একটি হুমকি ছিল না—এটি ছিল এক পরিবারের ভাঙন ঘটানোর চেষ্টা, যেখানে সবচেয়ে দুর্বল জায়গায় আঘাত করে ভয়কে অস্ত্র বানানো হয়েছে এবং একটি শিশুকে রাজনীতির নামে জিম্মি করার চেষ্টা হয়েছে।

এলাকার লোকজন জানান, জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে গেছে, এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের ভয় দেখানো, হুমকি ও হামলার ঘটনা বেড়েছে। তবে অভিযোগ থাকাসত্ত্বেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানা গেছে।


আরো সংবাদ পড়ুন...