হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার দুর্গাপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী ও সাবেক নির্বাচনী সংগঠক একলাসুর রহমানের পরিবার পুলিশের হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মিথ্যা মামলার অভিযোগে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, একলাসুর রহমান স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি হবিগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এর জেরে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও তাদের অনুসারীদের রোষানলে পড়েন বলে পরিবার দাবি করেছে।
পরিবারের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে একলাসুর রহমানকে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলে যোগদানের জন্য চাপ দেওয়া হয়। তিনি রাজি না হওয়ায় তাকে চাঁদা দাবি, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়তে হয়। এক পর্যায়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে তিনি আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন এবং পরে কানাডায় আশ্রয় নেন।
একলাসুর রহমানের স্ত্রী বিমলা আক্তার মেঘলা অভিযোগ করেন যে, স্বামীর দেশত্যাগের পরও তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার বিউটি পার্লারে এসে স্বামীর অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান এবং তথ্য না দিলে পরিবারের জন্য গুরুতর পরিণতির হুমকি দেন।
পরিবারের দাবি, ৭ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তার বিউটি পার্লারে গিয়ে জানান যে একলাসুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। একই সঙ্গে তাকে স্বামীকে পুলিশের কাছে হাজির করতে বলা হয়। ওই সময় ওসি তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং দাবি করেন যে তিনি তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপন করলে পরিবারের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
বিমলা আক্তার মেঘলা অভিযোগ করেন, তিনি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ওসি তার বিউটি পার্লারের নামে অবৈধ কার্যকলাপ পরিচালনার মিথ্যা অভিযোগ তোলেন এবং ফৌজদারি মামলা দেওয়ার হুমকি দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে তিনি একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযোগ দাখিলের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ এবং ৭ মার্চ ২০২৫ তারিখে পুলিশ সদস্যরা পুনরায় বিউটি পার্লারে গিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
পরিবারের আরও অভিযোগ, ২৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য আবারও বিউটি পার্লারে উপস্থিত হয়। এ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ বিমলা আক্তার মেঘলাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং ওসি তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার ভাশুরও আহত হন। এছাড়া পুলিশ পার্লার তছনছ করে এবং কথিত অবৈধ দ্রব্যের সন্ধানে তল্লাশির নামে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট ওসি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং সংবাদমাধ্যমে কথা বলার জন্য ভুক্তভোগীকে গুরুতর পরিণতির হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, তারা ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা চাইলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো কার্যকর সুরক্ষা পায়নি। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্য কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।