বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন

ক্ষমতাসীন দলের নিপীড়ন অন্য মাত্রায় চলে গেছে- মা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে আর ছেলে মাসের পর মাস আত্মগোপন করে আছে

সিলেট প্রতিনিধি: / ৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২২

দেশ ছেড়ে পালিয়েছে এক হতভাগ্য বিধবা, তার ছোট ছেলে কয়েক মাস ধরে আত্মগোপনে রয়েছে। এটি বিয়ানীবাজারের এক নামী পরিবারের কাহিনী। তাদের দোষ হলো, তাদের পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য বিদেশে থাকেন, আর মাত্র দুইজন ব্যক্তি দেশে থাকেন যা ক্ষমতাসীন দলের লোকজনকে তাদের সম্পত্তি দখল করতে সমস্যা সৃষ্টি করেছে।

বিধবা মিসেস পিয়ারা বেগম, প্রয়াত মোক্তার আলীর স্ত্রী, জনাব আলী ১৯৯৬ সালে মারা যান। মিসেস বেগমের তিন ছেলে ও এক মেয়ে প্রবাসে থাকেন। তার ছোট ছেলে রুবেল আহমেদ এবং তিনি তাদের পৈত্রিক বাড়িতে থাকতেন। সূত্র জানায়, তারা বাংলাদেশে থাকায় তাদের বাড়ি দখলে সন্ত্রাসীদের যে কারণে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় সন্ত্রাসীদের জন্য কৌশলগত সমস্যা হচ্ছিল। তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে থাকে। প্রথমে সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু সেই টাকা তাদের ঐ পরিবার দেয়নি। টাকা দিতে না পারায় প্রতিশোধ হিসেবে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন মা-ছেলে দুজনকেই জামায়াত কর্মী ট্যাগ করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। সবচেয়ে দুঃখের বিষয়, তারা মিসেস বেগমকে কিছু নথিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে। ঐ হামলার সময় মা-ছেলে প্রতিবেশীদের কাছে সাহায্য চাইলেও কেউ তাদের উদ্ধার করতে আসেনি। এ নির্মম ঘটনার পর তাদের আইনজীবী আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে, কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ না দেখিয়ে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

গুন্ডারা ইতিমধ্যে যে ক্ষতি করেছে তাতেও তারা খুশি ছিল না এবং তারা আরও নির্মম হয়। তারা মিসেস বেগমের ছেলে রুবেলের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের মে মাসে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে এবং তারপর পুলিশ রুবেলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। ঐ মামলার পর রুবেল আত্মগোপনে আছেন। এর পরে, গুণ্ডারা মাকে হুমকিমূলক ফোন দিতে শুরু করে, কেননা সেই সময়ে ঐ মায়ের সাথে কেবল একজহন দাসী ছিল। এমন এক সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে মিসেস বেগমকে তার নিজ বাসা থেকে অন্য কোথাও পালিয়ে যেতে হয়েছিল। পুলিশ, র‌্যাব ও রাজনৈতিক গুন্ডারা তাকে আটকানোর জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে সূত্রে জানা গেছে। কোন উপায় না পেয়ে, কানাডায় বসবাসরত তার মেয়ে তার ভিসার জন্য এগিয়ে আসে, এবং তিনি অবশেষে এই ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে দেশ ছেড়ে চলে যান। এই সরকারের আমলে কী অরাজকতা চলছে। বিভিন্ন মতের মানুষ বা যাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা আছে তারা এই সরকারের গুন্ডাদের দ্বারা ক্রমাগত টার্গেট করা হচ্ছে যেন দেশে কোন সরকারই নেই।


আরো সংবাদ পড়ুন...