সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার আলহেরা শপিং সিটি মার্কেটের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আবদুর নূরের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে হুমকি, ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের দাবি, বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগীরা তাদের বাড়িতে গিয়ে মোহাম্মদ আবদুর নূরের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আবদুর নূর বিশ্বনাথ পৌরসভার আলহেরা শপিং সিটি মার্কেটে “তানহা টেইলার্স” নামে একটি দর্জির ব্যবসা পরিচালনা করতেন। পরবর্তীতে ব্যবসায়িক বিরোধ এবং স্থানীয় কমিশনার শামীমের নেতৃত্বে প্রভাবশালী একটি পক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে তিনি এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে এলাকা ত্যাগের পরও তার পরিবারের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে বলে স্বজনদের অভিযোগ।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বছরের আগস্ট মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় এবং এর পরবর্তী সময়ে কয়েক দফায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তাদের বাড়িতে গিয়ে মোহাম্মদ আবদুর নূরের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে, পূর্বের বিরোধের জের ধরে তাকে খুঁজে বেড়ানো হচ্ছে।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে মোহাম্মদ আবদুর নূরের বড় ভাই মো. ফয়েজ আহমেদের মোবাইল ফোনে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি কল করে পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। কলকারী দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও তাদের কিছুই হবে না এবং তারা আগের অসমাপ্ত কাজ শেষ করবে। এ ঘটনায় পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে স্থানীয় থানায় মৌখিকভাবে বিষয়টি জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে গত ৩০ ডিসেম্বর কয়েকজন পুলিশ সদস্য মোহাম্মদ আবদুর নূরের পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে তার বর্তমান অবস্থান, যোগাযোগের ঠিকানা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। তবে পুলিশ কী কারণে এই অনুসন্ধান চালিয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রতিপক্ষের হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসাবে পুলিশ মোহাম্মদ আবদুর নূরের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এসব ঘটনা তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মোহাম্মদ আবদুর নূর এলাকায় ফিরে এলে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কমিশনার শামীমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্বনাথ থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এলাকার সচেতন মহল বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য নিয়ে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।