শিরোনাম :
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন

আসাদ গেটের পাশে দিন বেলায় হামলায় শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত

স্টাফ রিপোর্টার / ৭১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ৬ আগস্ট, ২০২১

একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ৫ আগস্ট ২০২১ তারিখে আসাদ গেটের কাছে একজন শিক্ষার্থীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, যার ফলে তিনি নিহত হন। এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়কে গভীর ভাবে কাঁপিয়ে দিয়েছে এবং ন্যায়বিচারের দাবি উঠেছে। আক্রমণটি দিনের বেলাতেই ঘটে, যখন মঞ্জুরুল ইসলাম, শাকিল আহমেদ এবং নিহত তাহমিদ আহমেদ স্কুল থেকে ফেরার পথে একটি স্থানীয় রেস্তোরাঁর দিকে যাচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি মোটরবাইক হঠাৎ তাদের সামনে থামে, এবং চালক গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। মঞ্জুরুল ইসলাম, যিনি তখন নিহতের সাথে ছিলেন, সেই ভয়ঙ্কর ঘটনার বিবরণ দেন। ইসলাম বলেন, “আমরা সঙ্গে সঙ্গেই নিচু হয়ে পড়ি, জীবন বাঁচানোর জন্য ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু যখন চারপাশে তাকাই, দেখি তাহমিদ রক্তে ভেসে যাচ্ছে।” তাহমিদকে পেটে গুলি করা হয়েছিল এবং পথচারীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু প্রচেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

গুলি চালানোর কারণ অস্পষ্ট, তবে ইসলাম এবং তার পরিবার দাবি করেছেন যে, তারা এবং তাদের বন্ধুরা ছাত্রলীগ সদস্যদের দ্বারা হয়রানি এবং হুমকির শিকার হয়েছেন।

ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগের সদস্যরা তাদের দলীয় কার্যক্রমে যোগ দিতে চাপ দিচ্ছিল, যা তারা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ইসলাম মনে করেন যে, এই মারাত্মক ঘটনা তাদের রাজনৈতিক মতভেদ এবং ছাত্রলীগের কার্যক্রমে যোগ না দেওয়ার সাথে যুক্ত থাকতে পারে।

এই দুঃখজনক ঘটনা শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে। নিহতের পরিবারের এক বন্ধুর মতে, “এই অবাঞ্ছিত সহিংসতায় আমরা শোকাহত। শুধুমাত্র রাজনৈতিক ইস্যুর কারণে শিক্ষার্থীরা নিজেদের জীবন নিয়ে ভীত হবে, এটি মেনে নেওয়া যায় না।”

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তাহমিদ আহমেদের বন্ধু এবং পরিবার দ্রæত বিচার চান, তাদের আশঙ্কা যে, অপরাধীরা ধরা না পড়লে আরও সহিংসতা ঘটতে পারে।

এই ঘটনা বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা যুবকদের বিষয়ে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এবং সুশীল সমাজের সংগঠনগুলো এখন সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে যেন এই সমস্যার সমাধান করা হয় এবং যারা এই ধরনের হুমকির সম্মুখীন তাদের জন্য সুরক্ষা প্রদান করা হয়। তাহমিদ আহমেদের এই অকাল মৃত্যু সমাজকে জাগিয়ে তুলবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।


আরো সংবাদ পড়ুন...