শিরোনাম :
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন

সরকারি সংস্থায় দুর্নীতি: ১২% কমিশন ছাড়া পাওনা টাকা পরিশোধ নয়!

খালিদ হাসান, ঢাকা: / ৭৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২

সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ১২% কমিশন ছাড়া সরবরাহকারীদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে।

ব্যবসায়ী কাজী নাফীজ আলম জানিয়েছেন, বিপিডিবি-তে তাদের সরবরাহ করা ইলেট্রো মেকানিক্যাল যন্ত্রপাতির প্রায় ১৫ কোটি টাকা আটকে রাখা হয়েছে শুধুমাত্র ঘুষ না দেওয়ার কারণে। কাজী নাফীজ আলম, যিনি টেকনো এইড ও ইলেকটেক (প্রা.) লিমিটেড-এর পরিচালক বলেন, আমাদের কোম্পানি বৈদ্যুতিক ও ইলেট্রো মেকানিক্যাল যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে। আমাদের বিপিডিবির কাছে ১৫ কোটি টাকার বেশি পাওনা রয়েছি। কিন্তু বিল পরিশোধের জন্য ১২% কমিশন চাওয়া হচ্ছে, যা আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি জানান, গত ১৮ নভেম্বর ২০২২ তারিখে তিনি বিপিডিবির হিসাব বিভাগের এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে অফিসে এসে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য বলা হয়। কিন্তু সেখানে উপস্থিত হলে এক কর্মকর্তা সরাসরি জানান, সার্ভিস চার্জ হিসেবে ১২% টাকা না দিলে বিল পরিশোধ হবে না। আরও অভিযোগ উঠে যে, এই কমিশনের অংশ সরাসরি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়।

নাফীজ আলম আরও বলেন, তিনি যখন এই ঘুষের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং বিষয়টি আদালত বা গণমাধ্যমে প্রকাশ করার হুমকি দেন, তখন বিপিডিবির হিসাব ও অর্থ বিভাগের নিয়ন্ত্রক মো. নাসরুল হক তাকে অফিসে আটক করেন এবং ভয় দেখান। পরে তাকে একটি ফাঁকা কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয় এবং কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যাতে তিনি এ নিয়ে আর কোথাও কথা না বলেন। এই ঘটনায় পুলিশের দ্বারস্থ হতে গেলে, পুলিশ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বলে যে উচ্চ পর্যায়ের অনুমতি ছাড়া তারা এমন কোনো অভিযোগ গ্রহণ করতে পারবে না।

এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর শামসুল আলম বলেন, “এ ধরনের দুর্নীতি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। সরকারি কর্মকর্তারা সাধারণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে কমিশন আদায় করে আসছেন। এই অভিযোগ নতুন নয়, তবে খুব কম লোকই সাহস করে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন।” সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বিপিডিবির কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে, এই প্রকাশনার পর কাজী নাফীজ আলম আরও হুমকির মুখে পড়তে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এর আগে জ্বালানি খাতে দুর্নীতি উন্মোচনকারী সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাÐের মতো ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটেছে।


আরো সংবাদ পড়ুন...